যেভাবে প্রযুক্তির ফাঁদে আটকা পড়ে সাফাত ও সাদমান

ঢাকা | 2017/05/12 | 07:02

যেভাবে প্রযুক্তির ফাঁদে আটকা পড়ে সাফাত ও সাদমান

পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়ে সিলেট থেকে ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে গ্রেফতার করা হয়। সিলেট মহানগরের উপ পুলিশ কমিশনার জেদান আল মুসা (গণমাধ্যম)  এ কথা জানিয়েছেন।

প্রযুক্তি আর কৌশলকে কাজে লাগিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানতে পারেন সাফাত ও সাদমান সিলেটের জালালাবাদ থানার মদিনামার্কেট এলাকার একটি বাসায় অবস্থান করছে। তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর ঢাকা থেকে পুলিশের একটি বিশেষ দল (টেকনিক্যাল) সিলেটে আসে। সিলেট মহানগর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার (১১ মে) রাত ৯টায় সাফাত ও সাদমানকে গ্রেফতার করা হয়।

জেদান আল মুসা জানান, ‘প্রযুক্তি ব্যবহার করেই ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাত ও সাকিফের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ। অভিযানের আগে সিলেট মহানগর পুলিশের সহযোগিতা চাইলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পুলিশ ঢাকা থেকে আগত অভিযানকারী দলকে সহযোগিতা করে।’

সাফাতসহ তার সহযোগীরা যে সিলেটে অবস্থান করছে, আগে থেকেই পুলিশের কাছে তথ্য ছিল কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু মামলাটি ঢাকার সেজন্য পুলিশের কাছে কোনও সঠিক তথ্য ছিল না তাদের অবস্থান সম্পর্কে। যদি সঠিক তথ্য পাওয়া যেত, তাহলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করতে পারতো।’

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযানের আগে পুরো বাসাটি ঘেরাও করে রাখা হয়েছিল, যাতে কোনোভাবেই ভবন থেকে লাফ দিয়ে আসামিরা পালিয়ে যেতে না পারে।

জানা যায়, বনানীতে ধর্ষণ মামলা দায়ের করার পর আত্মগোপনে চলে যায় মামলার পাঁচ আসামি। এরপর পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করার জন্য তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়েও সফলতা পায়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এর আগে সোমবার (৮ মে) সাফাত, সাদমানসহ পাঁচজন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার টিল্লাপাড়ার ‘রিজেন্ট পার্ক রিসোর্টে’ রুম ভাড়া নিতে গিয়েছিল। কিন্তু রুম ভাড়া দেওয়ার আগে হোটেলের কর্মচারীরা তাদের কাছে ভোটার আইডি কার্ড চাইতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সাফাত। এরপর সাফাত ও তার সহযোগীরা তড়িঘড়ি করে ওই হোটেল ছেড়ে চলে যায়। পরে আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রযুক্তির আশ্রয় নেয় পুলিশ।

পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, সাফাতের নানাবাড়ি সিলেট নগরের শেখঘাট এলাকায়। তার নানা মতিন মিয়া এবং মামা মাসুম আহমেদই সিলেটে আত্মগোপনে আসামিদের সহায়তা করেছিলেন। যে বাড়িতে তারা আত্মগোপনে ছিল, এটি স্থানীয়দের কাছে ‘রশীদ ভিলা’ নামে পরিচিত। বাড়ির মালিক লন্ডন প্রবাসী মামুনুর রশীদ সাফাতের নানা মতিন মিয়ার আত্মীয়। দীর্ঘদিন থেকে মতিন মিয়া ও মামনুর রশীদের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। মতিন মিয়া এ ঘটনার পর তার নাতিকে রক্ষা করার জন্য মামুনুর রশীদের সঙ্গে কথা বলে তার ছেলে মাসুমকে দিয়ে বুধবার (১০ মে) রাত ১১টায় আসামিদের রশীদ ভিলায় পাঠান।

রশীদ ভিলায় গিয়ে দেখা যায়, তিন তলা ভবনের পুরো বাড়িই খালি। বছরের বিভিন্ন সময়ে মামুনুর রশীদের পরিবারের কেউ আসলে এখানে কয়েক সাপ্তাহ থাকেন বলে কেয়ারটেকার নুরুন্নবী জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন দুই তরুণী। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই দুই তরুণীকে জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। এরপর তাদের বনানীর ‘কে’ ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে রেইনট্রি নামের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। এ ঘটনা সাফাতের গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিও করানো হয় বলেও উল্লেখ করা হয় এজাহারে। ধর্ষণ মামলার আসামিরা হলো- সাফাত আহমদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।

READ : 503 times

এইদিনে