অমোচনীয় কলঙ্ক

মোঃ আশরাফুল ইসলাম ইমন, সিনিয়র রিপোর্টার | 2017/01/28 | 11:19

পুলিশ সাংবাদিক বন্ধু। পুলিশের জণগণের সেবা করে আর সেই সেবা করার খবর জনতার কাছে পৌছে দেয় সাংবাদিক। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার দেখা যায় পুলিশ সাংবাদিকদের কতটা বন্ধু হিসেবে দেখে।

রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পিকেটারদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। দুপুরে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিতে তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির হরতালে দুইজনকে আটক করে পুলিশ। এদের ছবি তুলতে গেলে বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজের ক্যামেরা পার্সন আবদুল আলিমকে ফেলে বেধড়ক পেটান কয়েকজন পুলিশ সদস্য।তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে রিপোর্টার কাজী ইশান বিন দিদারও হামলার শিকার হন।

এই ঘটনায় সাংবাদিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে শাহবাগ থানায় অবস্থান নেন। আর আহত দুই সাংবাদিককে নেয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

কিন্তু ব্যবস্থা না নেয়ার আগে থানা না ছাড়তে অনঢ় ছিলেন সাংবাদিকরা। এর মধ্যে পুলিশের পিটুনিতে আহত দুই সাংবাদিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে শাহবাগ থানায় আনা হয়। পরে কারা হামলা করেছে তাদের চিহ্নিত করার জন্য এই দুই সাংবাদিকদের সামনেই পুলিশ সদস্যদের নিয়ে আসা হয়।জানতে চাওয়া হয় এদের মধ্যে কেউ দোষী কি না।

১০ বারে প্রায় ১০০ জন পুলিশ সদস্যকে হাজির করিয়ে জানতে চাওয়া হয়, এদের কেউ হামলাকারী কি না। আর সাংবাদিকরা প্রধান সন্দেহভাজন সহকারী উপপরিদর্শক এরশাদ মণ্ডলসহ ১২ জনকে চিহ্নিত করেন। বাকিদের মধ্যে আছেন, কনস্টেবল মোখলেছুর রহমান ও কনস্টেবল হোসেন কবির, কনস্টেবল সবুজ খান, তৌফিক হানিফ।

এরই মধ্যে প্রধান সন্দেহভাজন এরশাদ মণ্ডলকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা অঞ্চলের উপকমিশনার খন্দকার মারুফ হোসেন সরদার। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি ব্যক্তিগতভাবে এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা এই ঘটনার ফুটেজ পেয়েছি। এগুলো তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

যখন এই পুলিশের আশ্বাসে সাংবাদিকরা একটু শান্ত হন তখন ঢাকায় হরতাল চলাকালে সাংবাদিক নির্যাতনের ব্যাপারে শুক্রবার বিকেলে মৌলভীবাজার জেলার শমসেরনগরে শাহ তোরণের ফলক উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘সাংবাদিক নির্যাতন পুলিশে করে না। মাঝেমধ্যে ধাক্কাধাক্কি লেগে যায়, এটা স্বাভাবিক। আপনারা দুজন বন্ধু যদি একসঙ্গে চলেন ধাক্কাধাক্কি তো লেগেই যায়। এই ধরনের একটা কিছু হয়েছে।’ 

ঠিক এইরকম নির্বোধ মন্তব্য করেছিলেন বিবিসি বাংলা-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়ার পরে ততকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দিন খান আলমগীর। তিনি আশংকা করেছিলেন ‘মৌলবাদী বিএনপি’র হরতাল সমর্থকরা ফাটল ধরা ভবনটি নাড়াচাড়া করায় সাভারের ‘রানা প্লাজা’ ধসে পড়তে পারে বলে’।

আমাদের দেশে সব সম্ভব। নাড়া-চাড়া দেয়া বা ধাক্কা লাগা এগুলো কোন ব্যপারই না এই দেশে।

ছবির কোথাও দেখা যাচ্ছে না যে ধাক্কা ধাক্কি হচ্ছে। যেখানে স্পষ্ট প্রতীয়মান যে বুট জুতা, লাঠি দিয়ে পেটানো হচ্ছে সেখানে তাহলে এটাই ধাক্কা ধাক্কি। এখন থেকে সাধারণ জনগণ লাথি মেরে বলবে ধাক্কা লেগেছে। দুক্ষিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি তাহলে এই মারধরের বিষয়টাকে উস্কে ঢেলে দিলেন? বিষয়টা কি পূর্ব পরিকল্পিত ছিলো এমন প্রশ্নও করছেন অনেকে।

এদিকে সাংবাদিকদের উপর নৃশংসভাবে হামলার-মামলা ও হত্যার হুমকির প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নের্তৃবৃন্দ।

আজ শনিবার সকাল ১১টায় শাহবাগস্থ জাতীয় জাদুঘরের সামনে মৌন সমাবেশ ও মানববন্ধন শেষে ব্রিফিংয়ে এ দাবি জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজে এর সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ডিআরইউ সাবেক প্রেসিডেন্ট শাহেদ চৌধুরি, এটিএন নিউজের সিইও মুন্নি সাহাসহ ৫ শতাধিক সাংবাদিক ও নের্তৃবৃন্দ।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, সাংবাদিক নির্যাতনের পর পুলিশকে সাফাই গেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যে বক্তব্য দিয়েছেন তা মেনে নেয়া যায়না। আমরা এ বক্তব্য প্রত্যাখান করছি। তার বক্তব্য হামলাকারীদের উস্কে দেবে।

তিনি বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে এবং তদন্তে সেদিন ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকদের সাক্ষ্য নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, অতীতের সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা গুলোর যদি সুষ্ঠু বিচার হতো তাহলে আজ তারা এমন সাহস পেতো না। ঘটনার দিন পুলিশ পরিকল্পিতভাবে এবং ঠান্ডা মাথায় সাংবাদিকদের ওপরে নির্যাতন চালিয়েছে। আমরা তদন্ত প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবো । এবারো যদি অতীতের ঘটনাগুলোর মতো দায়সারা তদন্ত হয় তাহলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান এই সাংবাদিক নেতা।

মুন্নী সাহা বলেন, অতীতের সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাগুলোর বিচার না হওয়ায় এর পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। এসব ঘটনায় দায়ি ব্যক্তিদের সাময়িক বরখাস্তের নামে জামাই আদর করা হয়।

তিনি বলেন, মনে হয় রামপালের ঘটনা নিয়ে পুলিশ সেদিন অন্য ভাবে কাভারেজ নিতে চেযেছিলো কিন্তু সেটা নিতে না পেরে তারা সাংবাদিকদের ওপরে এমন নির্যাতন চালিয়েছে। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে এর বিচার করতে হবে।

ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাবেক সভাপতি শাহেদ চৌধুরী বলেন, কয়েকদিন আগে পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন পুলিশকে জনবান্ধব হতে হবে। এই কি জনমান্ধব পুলিশের নমুনা? এ ঘটনার পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছে তা দু:খজনক। অনেকে বলছেন আন্তর্জাতিক ষড়যন্তও হয়েছে। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে আন্তর্জাতিক ভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে এর বিচার করুন।

তিনি বলেন, বিচার হীনতার সংস্কৃতির জন্যই এসব ঘটনা বেড়েই চলেছে। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষবটান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, হয়রানি ও আক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে সাংবাদিক নির্যাতনের হার ছিল ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে ২০১৪ সালে এই হার হয়েছে ৩৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এর প্রায় ২৩ শতাংশ নির্যাতনই হয়েছে পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের হাতে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাইরে সরকারি কর্মকর্তাদের হাতে ১১ শতাংশ আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। বাক্স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন আর্টিকেল-১৯ এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করেছে। সংগঠনটি সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য একটি কার্যকর সুরক্ষা কৌশল ও নীতিমালা করাসহ কয়েকটি সুপারিশ করেছে।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে ৩রা মে ২০১৫ সালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আর্টিকেল-১৯ এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ‘ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ইন বাংলাদেশ-২০১৪’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন ও হয়রানির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনটির বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক তাহমিনা রহমান। তিনি বলেন, এমন নির্যাতন সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য হুমকি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে রাষ্ট্রযন্ত্রের বাইরে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ৬৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের হাতে ৩৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে সাংবাদিকদের হয়রানির পরিমাণ বেড়েছে ১০৬ শতাংশ। হয়রানির মধ্যে মানহানির দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলাও রয়েছে। ২০১৩ সালে হয়রানির ঘটনা ছিল ৩৩টি; ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮টিতে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ১০টি ফৌজদারি মামলা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তাহমিনা রহমান সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা বিভিন্ন মামলার উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আপাতদৃষ্টিতে এসব মামলার সব কটিই হয়রানিমূলক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম আলোর সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক ও কুমিল্লার নিজস্ব প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে ২০০ কোটি টাকার দেওয়ানি মানহানির মামলা করে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের মালিকপক্ষ। অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে মামলাটি করা হয়।

যুগান্তর পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং এক প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাদী হয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও দীপু মনির পক্ষে একটি ফৌজদারি মামলা করেন চাঁদপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। মামলাটি হওয়ার কারণ ছিল ‘হেভিওয়েট প্রার্থীরা যে কারণে বাদ পড়লেন’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন। আর্টিকেল ১৯-এর প্রতিবেদনে এমন আরও কয়েকটি মামলার উদাহরণ দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে মোট ২১৩ জন সাংবাদিক ও আটজন ব্লগার বিভিন্নভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে চারজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। গুরুতর জখম হয়েছেন ৪০ জন। আর শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৬২ জন সাংবাদিক। হত্যাকাণ্ডের শিকার চার সাংবাদিক হলেন শাহ আলম মোল্লা, সরদার নিপুণ, দেলোয়ার হোসেন ও জি এম বাবর আলী। এঁদের মধ্যে নিহত সাংবাদিক শাহ আলম মোল্লা রাজধানী ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার ছাদ থেকে পড়ে মারা যান। তাঁর স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশই ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে তাঁকে হত্যা করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্পাদক, প্রকাশক ও সাংবাদিক নেতারাসহ ১৩ জন মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে আদালত অবমাননার অভিযোগের মুখোমুখি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান প্রমুখ। গত বছর আটজন ব্লগার ও অনলাইন ব্যবহারকারীসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৩ জনকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়। আক্রান্ত সাংবাদিকদের মধ্যে ১৯ জন (৮ দশমিক ৯২ শতাংশ) হুমকির শিকার হয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে নারী সাংবাদিকেরা লিঙ্গগত হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঘটা সহিংস ঘটনার একটিরও বিচারের মাধ্যমে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব ঘটনার মধ্যে মাত্র পাঁচটি ঘটনার তদন্ত শেষ করা হয়েছে। ২৭ শতাংশ ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। আর প্রায় ৭০ শতাংশ ঘটনা আইনের আওতার বাইরে রয়েছে। ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ আক্রমণের ঘটনায় কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অধিকাংশ ঘটনায় আক্রান্ত সাংবাদিকেরা সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেননি। অন্যান্য ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনের অস্পষ্টতা ও দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাংবাদিক, ব্লগার ও অনলাইনের কর্মীদের হয়রানির সুযোগ পায়। যেমন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় সুস্পষ্টভাবে অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। ফলে অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে নির্দোষ প্রচারণার কারণেও সাংবাদিক ও ব্লগাররা আইনি হয়রানির শিকার হন। বিচারহীনতার কারণে রাষ্ট্রযন্ত্র, এমনকি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা অনেক সময় সহিংসতা ও আক্রমণের ঘটনা ঘটান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর অযাচিত আক্রমণ, সহিংস ঘটনার বিচারিক তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি গণমাধ্যমের কর্মীদের জন্য চরম বাস্তবতা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

আর্টিকেল-১৯ সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য একটি কার্যকর সুরক্ষা কৌশল ও নীতিমালা করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন, মানহানি ও আদালত অবমাননাসংক্রান্ত আইনকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করাসহ আরও কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমা।

এখন দেখা যাচ্ছে যে বন্ধুত্বের নামে একে একে সাংবাদিকদের হয়রানি করে যাচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ। এই হয়রানির বিরুদ্ধে  আজ সকাল ১১টা থেকে ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সমাবেশ থেকে মৌন প্রতিবাদ জানানো হয়। সাংবাদিকরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে সবাই সারিবদ্ধভাবে প্লাকার্ড নিয়ে দাঁড়ান।

'কলম আর ক্যামেরা মাথানত করে না', ' কলমের স্বাধিনতা চাই, সাংবাদিকের উপর হামলার বিচার চাই, হোক প্রতিবাদ, মানবিক পুলিশ চাই, মুক্ত সংবাদ ও সাংবাদিকত চাই ও মৌনতাই হোক প্রতিবাদ ইত্যাদি শ্লোগান লেখা প্লাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে সাংবাদিকরা।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ্যে সাংবাদিক এস এস ফয়েজ বলেন, আমরা শান্তিপূণূভাবে এ কমূসূচি পালন করেছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নির্যাতিত দুই সাংবাদিকের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। এ সময় আগামী দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, বৃহষ্পতিবার সকাল ১১টায় সার্ক ফোয়ারার সামনে মানববন্ধন করা হবে। সেখান থেকে পরবর্তি কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

 

READ : 7823 times

এইদিনে