এভাবে আর কত রাজীব-রোজিনার প্রাণ যাবে ?

নিউজ ডেস্ক | 2018/04/29 | 13:50

রাজধানীর সড়কে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোয় ভয়ংকর সব দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। দুই বাসের বেপরোয়া রেষারেষিতে হাত হারিয়ে মারা যাওয়া সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেনের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই চলে গেলেন রোজিনা আক্তার।

পরপর কয়েকটি দুর্ঘটনা। কেউবা মৃত্যুবরণ করছেন আবার কেউবা চলাচলের ক্ষমতা হারাচ্ছেন। কেউ পা, আবার কেউবা হারাচ্ছেন হাত।

আজ রোববার সকাল ৭টায় রোজিনা আখতার (১৬) নামে এক গৃহপরিচারিকা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন রোজিনা। এর আগে গত ২০ এপ্রিল রোজিনা আখতার (১৬) নামে এক গৃহপরিচারিকা বনানীর বিমানবন্দর সড়কে বিআরটিসির বাসচাপায় তার ডান পা হারায়।

চলতে মাসের শুরুর দিকে গত ৪ এপ্রিল সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজিব হোসাইন বাংলামোটর এলাকায় দুই বাসের চাপায় তার ডান হাত হারান। পরে ১৭ এপ্রিল ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এর আগে ১১ এপ্রিল ফার্মগেটে বেপরোয়া বাসের চাপায় এক নারীর ডান পা থেঁতলে যায়। ঢাকা কলেজের সামনে রাস্তায় বিকাশ পরিবহনের দুটি বাসের প্রতিযোগিতায় মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায় আয়েশা নামের এক গৃহকর্মীরও।

১৭ এপ্রিল গোপালগঞ্জে বেপরোয়া ট্রাকের ধাক্কায় হৃদয় শেখ (৩০) নামে এক পরিবহন শ্রমিকের শরীর থেকে হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ২২ এপ্রিল ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে বগুড়ায় আট বছরের শিশু সুমির হাত এবং রংপুরে চার বছরের মেঘলা মনির পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যে জানা যায়, দেশের ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাস নৈরাজ্যের সঙ্গে জড়িত। যোগাযোগের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে সড়ক পরিবহন। আর তার মধ্যে ৮৭ শতাংশই যদি থাকে নৈরাজ্যের সঙ্গে যুক্ত তাহলে জীবন ঝুঁকিতে দেশের অগণিত মানুষ।

আজ রাজীব-রোজিনা চলে গেছে। কাল আমাদের কাউকে এভাবেই যেতে হবে না তা কী আমরা বলতে পারি। যারা সড়ক পরিবহনের শৃঙ্খলা আনার কাজে যুক্ত তাদের দায়িত্বশীলতাই রক্ষা করতে পারে অসংখ্য মানুষের জীবন। নিরাপদ করতে পারে সকলের পথচলা।

READ : 451 times

এইদিনে