মাইকেল ফ্লিনের পদত্যাগ: আরেকটি ওয়াটারগেটের অপেক্ষা

Online Desk | 2017/02/14 | 12:57

মাইকেল ফ্লিন অপ্রত্যাশিতভাবে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইন পেন্স’সহ হোয়াইট হাউসের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ মেনে নিতে পদত্যাগ করেন ফ্লিন।

দায়িত্ব পাওয়ার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নবগঠিত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ফ্লিনের সরে যাওয়াকে মার্কিন রাজনীতির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের আগে ফ্লিন টেলিফোনে আমেরিকায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।  কিন্তু ওই কথোপকথনের সব তথ্য হোয়াইট হাউজকে না জানানোর বিষয়টি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে প্রমাণিত হওয়ার পর পদত্যাগ করেন ফ্লিন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ ও রুশ সাইবার হামলার প্রতিক্রিয়ায় যেদিন মস্কোর বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন ঠিক সেদিনই রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন বিদায়ী নিরাপত্তা উপদেষ্টা ফ্লিন।

তিনি রুশ রাষ্ট্রদূতকে ওবামার আমলে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্পের শাসনামলে প্রত্যাহার করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এত বড় একটি নিরাপত্তা পদে থেকে রাশিয়ার মতো চিরশত্রুকে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘনের শামিল।  স্বাভাবিকভাবেইএ ঘটনা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য চরম অপমান বয়ে এনেছে।

দায়িত্ব গ্রহণের বহু আগে থেকে ট্রাম্পকে রাশিয়ার মিত্র বলে অভিযোগ করা হচ্ছিল। এমনকি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এক টেলিভিশন বিতর্কে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিন্টন ট্রাম্পকে রুশ প্রেসিডেন্টের হাতের পুতুল বলেও অভিহিত করেছিলেন। ডেমোক্র্যাট দল এবার ফ্লিনের কেলেঙ্কারি প্রকাশ হয়ে পড়ার পর বলতে পারবেন, তারা এর আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অমুলক অভিযোগ আনেননি।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও নির্বাচনি প্রচারাভিযান থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বহুবার বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চান তিনি। কিন্তু কাজটি যে ততটা সহজ নয় এবং মার্কিন প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে রুশ বিদ্বেষী ব্যক্তিরা বসে আছেন তা ফ্লিনের পদত্যাগের ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের এই মহলটি এত বেশি শক্তিশালী যে, ট্রাম্পকে তার অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করেছে।  ট্রাম্প নির্বাচনি প্রচারাভিযানে পরোক্ষভাবে ক্রিমিয়া উপত্যকাকে রুশ ফেডারেশনে অন্তর্ভূক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলেছেন, ক্রিমিয়া প্রজাতন্ত্রকে ইউক্রেনের কাছে ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত মস্কোর বিরুদ্ধে ওবামা প্রশাসনের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না।  বিশ্লেষকদের মতে, মস্কোর বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত রাশিয়ার সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক আশা করতে পারে না আমেরিকা।

এদিকে,  মাইকেল ফ্লিনের পদত্যাগ আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।  রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বীরা আমেরিকায় রাশিয়ার সাইবার হামলার বিষয়টিকে হাল্কাভাবে নেবেন বলে মনে হয় না।  মার্কিন কংগ্রেসে এ বিষয়ে দু’দলই বর্তমানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এ তদন্তে হয়ত ট্রাম্প প্রশাসনের আরো অনেক কর্মকর্তার নাম বেরিয়ে আসবে যারা পরবর্তীতে ফ্লিনের মতো পদত্যাগ করতে বাধ্য হবে। এরমধ্যে যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে অভিযুক্ত হন তাহলে তিনি কংগ্রেসে ইমপিচমেন্টের সম্মুখীন হতে পারেন। ভুলে গেলে চলবে না, যে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির জের ধরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন পদত্যাদ করতে বাধ্য হয়েছিলেন তা শুরু হয়েছিল হোয়াইট হাউজের কোনো কোনো কর্মকর্তার গোপন তৎপরতা থেকে।  ফ্লিনের পদত্যাগ আমেরিকাকে আরেকটি ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির মুখোমুখি দাঁড় করায় কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।

READ : 517 times

এইদিনে