রাজধানীতে মশার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি, নিধনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

নিউজ ডেস্ক | 2018/03/10 | 09:01

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, "পৃথিবী যতদিন থাকবে মশাও ততদিন থাকবে। মশাকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে মশাবাহিত দুই রোগ ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া মোকাবেলায় এবারের প্রস্তুতি ভালো। এ বছর মশার কারণে মহামারি তো দূরের কথা, ডেঙ্গু আক্রমণের কোনো আশঙ্কাই নেই।"

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের সভাকক্ষে 'চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে গৃহীত ব্যবস্থা ও রোগ দমনে করণীয়'- শীর্ষক এক সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন। মশার প্রকোপ বৃদ্ধি, প্রতিরোধের উপায়, দুই সিটি করপোরেশন কী কী করছে, এসব নিয়ে আলোচনা হয় এই সভায়।

মশা নিধনে দুই সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম ও তাদের পরিকল্পনার শুনে সন্তুষ্ট মন্ত্রী বলেন, ‘আমি অত্যন্ত সেটিসফাইড যে, আমাদের প্রস্তুতি ভালো আছে।...আমার মনে হয়, এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে মশার প্রাদুর্ভাব কমে যাবে।’

সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ হচ্ছে মশার কামড়ে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সঠিকভাবে চিকিৎসা দেয়া। আর তখনই আমাদের কাজ শুরু হয়। মশা নিধনের কাজ হচ্ছে সিটি করপোরেশনগুলোর। আর বাড়ির ভেতরে মশা নিধনের দায়িত্ব হচ্ছে বাড়ির মালিকের। বাড়ির ভেতরে ও আশপাশে যেখানে মশা জন্মায় বাড়ির মালিককে তা পরিষ্কার রাখতে হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শেখ সালাহউদ্দিন মশা নিধনে তাদের বাধাগুলোর কথা তুলে ধরেন বলেন, উড়ন্ত মশা মারা কঠিন। আমরা যদি ড্রেন, নালা বা ডোবাতে পানির প্রবাহটা চালু রাখতে পারতাম তাহলে এ ধরনের মশার ৭০ শতাংশ জন্মগ্রহণই করত না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখ সালাহউদ্দিন জানিয়েছেন, নালায় ঢাকনা দিয়ে বন্ধ থাকা আর শহরের চারপাশের অপরিচ্ছন্ন ডোবা থাকাটা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সভায় উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলাম বলেন, এবার মশা নিধনে তারা অন্য বছরের তুলনায় বেশি কাজ করছেন। এ বছর মশা নিধনে মেশিন, জনবল ও ওষুধের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন আগামী ১৭ মার্চ উপলক্ষে মহানগরীতে মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতার জন্য একটি বিশেষ সপ্তাহ পালন করার কথা জানান মেসবাহুল ইসলাম।
 পার্স
এ প্রসঙ্গে নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম-এর সভাপতি হাফিজুর রহমান ময়না বলেন, মশা নিধনের ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশন বা সরকার যা বলছে সে অনুপাতে কাজ হচ্ছে না। তাছাড়া নাগরিকরাও তাদের কাজের ব্যাপরে তেমন আস্থাশীল নয়।

এর আগে, গত জানুয়ারি মাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা ঢাকা মহানগরীর দুই সিটি করপোরেশনের ৯৩টি ওয়ার্ডের ১০০টি জায়গায় জরিপ চালায়।

জরিপ শেষে ১৯টি এলাকাকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তারে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এতে এতে মন্ত্রিপাড়া হিসেবে পরিচিত  মিন্টো রোড এবং বেইলি রোড এলাকাকে 'সবচেয়ে বেশী ঝুকিপূর্ণ' বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মিন্টো রোড ও বেইলি রোড ছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধীনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে-শান্তিনগর, ধানমণ্ডি-১, এলিফ্যান্ট রোড, গুলবাগ, কলাবাগান, মেরাদিয়ার এলাকায় এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া, উত্তর সিটি কর্পারেশনের অধীনে বনানী, উত্তরার ৯ নম্বর সেকটর, মহাখালী ডিওএইচএস, নাখালপাড়া, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, মগবাজার, মালিবাগের একাংশ,  গাবতলী, মিরপুর-১, পূর্ব শেওড়াপাড়া, টোলারবাগ ও সেক্টরকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

READ : 104 times

এইদিনে