‘পদ্মাবত’র মুক্তি ঘিরে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে সহিংসতা

বিনোদন ডেস্ক | 2018/01/25 | 07:05

ভারতের কয়েকটি রাজ্যজুড়ে বলিউডের চলচ্চিত্র ‘পদ্মাবত’ এর মুক্তির বিরুদ্ধে সহিংস প্রতিবাদ জানিয়েছে কট্টরপন্থি গোষ্ঠীগুলোর শত শত সমর্থক।

বুধবার ভারতের রাজধানী দিল্লি সংলগ্ন গুরগাঁও এর পাশাপাশি হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও জম্মু ও কাশ্মিরে সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

বৃহস্পতিবার ভারতজুড়ে মুক্তি পাচ্ছে ঐতিহাসিক কাহিনী নির্ভর বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ছবি ‘পদ্মাবত’।

রাজপুত রানি পদ্মীনির কাহিনীকে ভিত্তি করে এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে।

কিংবদন্তি অনুযায়ী, রূপবতী রানি পদ্মীনিকে পাওয়ার জন্য সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি রাজস্থানের চিতোর দুর্গ জয় করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকবার সামরিক অভিযান চালান। শেষে খিলজি পদ্মীনিকে ধরার চেষ্টা করলে সম্মান বাঁচাতে পদ্মীনি চিতোর দুর্গের একটি অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপ দিয়ে আত্মাহুতি দেন।

প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, চলচ্চিত্রটিতে রানি পদ্মীনির সঙ্গে খিলজির প্রেম দেখানো হয়েছে; এই অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করে আসছেন চলচ্চিত্রটির নির্মাণকারীরা। কিন্তু তাতেও ছবিটিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, সহিংসতা থামেনি।

গুরগাঁওয়ে প্রতিবাদরতরা হরিয়ানার একটি সরকারি বাসে আগুন দেওয়ার পর ওই সড়ক ধরে যাওয়া স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীদের একটি বাসে হামলা চালায়। বিক্ষুব্ধদের নিক্ষিপ্ত পাথরে স্কুল বাসটির অধিকাংশ জানালার কাঁচ ভেঙে যায়, আতঙ্কিত শিশুদের চিৎকার সত্বেও পাথর নিক্ষেপ বন্ধ করা হয়নি।

মোবাইলে ধারণ করা এই ঘটনার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।

‘‘পুলিশ সামনেই ছিল, কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তাদের পাত্তাই দিচ্ছিল না,” বলে জানিয়েছেন এক শিক্ষক।     

হরিয়ানার আরেকটি এলাকায় একটি বাস পুড়িয়ে দেয় তারা। হরিয়ানা ও রাজস্থানের বিভিন্ন অংশে রাস্তা অবরোধ করে রাখে।

উত্তর প্রদেশে জোর করে দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য করে। গুজরাটে যানবাহনে হামলা করে।

মধ্যপ্রদেশ এবং জম্মু ও কাশ্মির রাজ্যেও সহিংস প্রতিবাদ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

কোনো সিনেমা হলে ছবিটি যেন চলতে না পারে তা নিশ্চিত করতে নিজেদের সমর্থকদের নির্দেশ দিয়েছে রাজপুত সংগঠন করনি সেনা। গোলযোগের আশঙ্কায় গুরগাঁওয়ের বেশ কিছু স্কুল কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গোলযোগ এড়াতে গুরগাঁওয়ে সব ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিনেমা হলের ২০০ মিটারের মধ্যে প্রতিবাদকারীদের আসতে দেওয়া হবে না।

তারপরও শহরটির প্রায় ৪০টি সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ ছবিটি না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

আনন্দবাজার জানিয়েছে, সহিংসতার জেরে চারটি রাজ্যে ছবিটির প্রদর্শনী বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘মাল্টিপ্লেক্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া’।

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দীপক আশ জানিয়েছেন, রাজস্থান, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ ও গোয়ার মাল্টিপ্লেক্সগুলিতে মুক্তি পাবে না ছবিটি।

বৃহস্পতিবার ছবিটি মুক্তি পেলে ভারতের প্রতিটি সিনেমা হলের সামনে ‘জনতার কার্ফু’ জারি হবে বলে হুমকি দিয়েছেন করনি সেনার সভাপতি।  এই ছবির মুক্তি রুখতে ‘সর্বশক্তি’ প্রয়োগ করার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

প্রতিবাদাকারীরা সব চেয়ে বেশি তাণ্ডব চালিয়েছে গুজরাটে। গুজরাটের আহমদাবাদ থেকে পুলিশ ৫০ জন প্রতিবাদকারীকে আটক করেছে। প্রতিবাদকারীরা এখানে ৩০টি মোটরসাইকেল পুড়িয়েছে। 

রাজস্থানে ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে না এমন খবরের পরও জয়পুরে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ হয়।

মুম্বই, লখনউ, ভোপাল, মথুরাতেও গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। মুম্বই থেকে ৫০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

READ : 180 times

এইদিনে