image

ভূমি ও খনিজসম্পদ দখল নিতেই রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদ?


মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির প্রভাবশালী সেনাবাহিনীর চলমান তথাকথিত ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের নৃশংসতা ও সহিংসতাকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আখ্যায়িত করেছে জাতিগত নিধনযজ্ঞ হিসেবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত খবরে রোহিঙ্গা সংকটের নেপথ্যের কারণ হিসেবে ধর্মীয় ও জাতিগত সংঘাতের বিষয়টিই আলোচিত হচ্ছে। খুব কম প্রতিবেদনেই রোহিঙ্গা সংকটের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তবে অল্প কয়েকজন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও লেখক এই সংকটের কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক কারণ, বিশেষ করে মিয়ানমারজুড়ে ভূমি দখল ও উচ্ছেদের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন।

image

সংঘবদ্ধ ধর্ষণকে রোহিঙ্গা তাড়ানোর অস্ত্র বানিয়েছে মিয়ানমার


জাতিসংঘের এক অনুসন্ধানী দল জানিয়েছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নারীরা ধারাবাহিকভাবে সে দেশের সেনাবাহিনীর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। ঘটনা তদন্তে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে গিয়ে সেইসব ভয়াবহ যৌন নিপীড়নেরা ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরেছে সহিংসতা ও যৌন নিপীড়ন ঘটনা তদন্তে গঠিত জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দল। অস্ট্রেলিয়ার এবিসি নিউজ আর ভারতের এনডিটিভিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের ধারাবাহিকভাবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা তুলে এনেছে। এদিকে জাতিসংঘের দুই কর্মকর্তা বলেছেন রোহিঙ্গাদের রাখাইন থেকে তাড়ানোর অস্ত্র হিসেবে সংঘবদ্ধ ধর্ষণকে ব্যবহার করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

image

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলো কি শ্রীলঙ্কা-বসনিয়ার ভাগ্য বরণ করবে?


মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের জন্য সেইফ জোন প্রতিষ্ঠা করা হলে তার ফল ভালো হবে না বলে আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। অতীতে প্রতিষ্ঠিত সেইফ জোনগুলোর পরিণতি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এমন আভাস দিয়েছে সংগঠনটি। মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী জেনেভাভিত্তিক অলাভজনক সংবাদমাধ্যম আইআরআইএন (ইনসাইড স্টোরি অব ইমার্জেন্সিস) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে একই রকম আভাস দিয়েছিল। সেই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য ৭টি নতুন আশ্রয় শিবির খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিয়ানমার। এখনও পালিয়ে যেতে সমর্থ হননি; এমন মানুষদের জোরপূর্বক ওই ক্যাম্পগুলোতে রাখা হবে বলে আশঙ্কার কথা জানানো হয় সেই প্রতিবেদনে।

image

আরসার সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সম্পর্ক কী?


মিয়ানমারের রাখাইনে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ চলমান থাকা অবস্থায় জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সবার জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিতের কথা জানিয়ে একতরফা অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। তবে আগস্টে রাখাইনে সেনাঅভিযান শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে অমুসলিমদের প্রতি তাদের বিদ্বেষের খবর প্রকাশিত হয়। দলীয় সদস্য হতে চাপ দেওয়া, ধর্মান্তরে বাধ্য করা, বাড়িঘরে আগুন দেওয়াসহ বহু মানুষকে হত্যার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ৮৬ হিন্দু রোহিঙ্গাকে হত্যার খবর প্রকাশিত হয়। সবশেষ সোমবার রাখাইনে এক ‘হিন্দু গণকবর’র সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এর জন্য আরসাকে দায়ী করে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সেই দায় অস্বীকার করা হলেও আরসার কর্মকাণ্ডকে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, আরসা মিয়ানমার সরকারের ভূমিকাকেই বৈধতা জুগিয়ে যাচ্ছে।